দিস বার্ড হ্যাজ ফ্লোন

পাখিটাকে এক ঝড়ের রাতে বাসায় নিয়ে আসা হয়। তুমুল বৃষ্টির মাঝে সে বাসার সামনের আমগাছটার নিচে পড়ে ছিল – চড়ুই পাখি, বয়স কেবল কয়েক দিন। সবাই বলল পাখিটা বাঁচবে না। এত ছোট পাখি মা ছাড়া বেশিদিন বাঁচে না। তবুও আমরা চেষ্টা করলাম পাখিটাকে বাঁচিয়ে রাখার। পাখি কিছু খেতে চায় না। যা-কিছুই তার মুখের সামনে নেয়া হয়, পাখি মুখ ফিরিয়ে নেয়। কেউ ভাত খাওয়াতে বলে, কেউ বলে চাল। পাখি শেষপর্যন্ত বিস্কিট খেতে রাজি হয়। আমরা পাখিকে পানি আর পানিতে গোলানো বিস্কিট খাওয়াই। পাখির জন্য কার্ডবোর্ডের ছোট বাক্সে থাকার জায়গা করে দেয়া হয়। অর্ধেক ছাদ-খোলা বাক্সের ভিতর পাখি থাকে। বাসা বানিয়ে দেয়ার পর বেশ একটা পোষা-পোষা ভাব আসে দেখতে। পোষা ভাব হলে ‘পর নাম দিতে হয়, আমরা পাখির নাম দেই সেইডি, স্যাড থেকে, কেননা তাকে দেখলে মনে হয় যে মন খারাপ করে আছে। কিংবা, হয়তো তার চেহারাটাই অমন। নাম বেশিদিন টেঁকে না। পাখিকে পাখিই বলা হয়। পাখি বসে থাকে, কখনও বাক্সের ভিতর, কখনও বাক্সের বাইরে। মাঝে মাঝে হাঁটে, কিন্তু উড়তে পারে না। ওড়ার চেষ্টা করে, একবার-দুইবার ডানা ঝাপ্টায়, খানিকটা উপরে ওঠে, আবার নিচে নেমে আসে। রাত বেড়ে গেলে পাখি বাক্সে বসে ঘুমায়। এভাবে তিন-চারদিন আমাদের সাথে থাকে। তারপর একদিন দুপুরে আমরা বাক্সে উঁকি দিয়ে দেখি পাখি মরে পড়ে আছে। তার পাতলা চামড়ার উপর দিয়ে ছোট্ট হৃৎপিণ্ডটা স্পষ্ট বুঝতে পারা যায়। ওটা থেমে থাকে।

 

২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

Advertisements