Dear Human, Just Feel Me

You see me like Alice saw Wonderland, with curious bewilderment and excited fright. I see you like the Alice I once was, but am not anymore. You look at me like I am not from here. You think of me as the one who got you into trouble, the one who will surely get away. You long for me; while I long for someone else, of course, inevitably. Confused, lost, tired. Constantly dangling between drastic purpose and existential woe, repetition and dispassion. And you, you smell like hotel rooms. The nice ones, the ones that smell good. Of air conditioning and air freshener and God-knows-what. Of something floral maybe, maybe new sheets. My eternal love for hotel rooms, my immense longing to belong. Do I stay, put up the “Do Not Disturb” sign? Dare I leave? Get out of the room – let out the room from me?

15 December 2016

Advertisements

নাউ প্লেয়িং: প্রোটোজে

13906732_10153970323433935_378653834121776590_n
প্রোটোজে

প্রোটোজে। জ্যমেইকান সিংগার, সংরাইটার।মিউজিক জঁরা রেগে, ডাব, রক। স্টুডিও অ্যালবাম দ্য সেভেন ইয়ার ইচ্ [The Seven Year Itch] (২০১১), দ্য এইট ইয়ার আফেয়ার [The 8 Year Affair] (২০১৩), এনশিয়েন্ট ফিউচার [Ancient Future] (২০১৫), রয়ালটি ফ্রি [Royalty Free] (২০১৬)।

প্রোটোজে রেগে-র জেনারেশন নেক্সট-এর অংশ, “রেগে রিভাইভাল”-এর অংশ। যারা রেগে-কে রিইনভেন্ট করতে চায়, যারা রেগের সাথে যোগ করে অন্য কিছু, কিন্তু মূলটা ঠিকঠাক রাখে – সেইম “রিডিম”, ডিফ্রেন্ট ট্রিটমেন্টস্।

প্রোটোজে স্ট্রেইট ফরওয়ার্ড, যা-হচ্ছে-তাই বলে – ‘ফ্রম দ্য স্ট্রিট্‌স্‌ অভ জ্যমেইকা কামিং লাইভ অ্যান্ড ডিরেক্ট’। প্রোটোজে হালকা, খানিকটা মিসচিভাসও। কিন্তু তার জ্যমেইকান ইংলিশ বা জ্যমেইকান পাতোয়া আর আইয়ারিক-এ সে যা বলে অধিকাংশ সময়ই তা হালকা না। প্রোটোজে ভারি কথা হালকাচালে বলে ফেলে। এবং তাতে ভারি কথা ভারিই থাকে, চালটাই হালকা হয়।

রেগে-র রাস্টাফারাই রেফারেন্স প্রোটোজের গানে বার বার আসে। সেই রেড-গোল্ড-গ্রিন, ম্যারিহুয়ানা, জাহ্ আর আই অ্যান্ড আই। সেই ট্রিক্‌স্‌, হিপক্রিসি আর অপ্রেশনের ব্যাবিলন দেখা, বোঝা, আর বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা; সেই জায়নের কথা ভাবা। অর্থাৎ কিনা নতুন প্রেক্ষাপটে ফান্ডামেন্টালি পুরান। এবং ফান্ডামেন্টালি পুরান তো থাকবেই; কেননা ফান্ডামেন্টালি নতুন কিছু তো ঘটতেছে না, আর পুরান নিয়েও নতুন নতুন হইতে পারে, বিপরীত যেহেতু না, মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ যেহেতু না।

উল্লেখ্য, প্রোটোজের সবগুলা অ্যালবামের গান শোনা যাবে ওর সাউন্ডক্লাউডে। আর র‌য়ালটি ফ্রি-র বি-সাইড ডাউনলোড করা যাবে ওর ওয়েবসাইট থেকে, [রয়ালটি] ফ্রি।

13707768_10153932611643935_5570512547759177428_n
প্রোটোজে

 

টপ টেন।

 

 

 

 

7yearitch-Protoje
অ্যালবাম কভার- The Seven Year Itch

 

 

 

CS2121649-02A-BIG
অ্যালবাম কভার- The 8 Year Affair

 

 

 

protoje-ancient-future-album-cover1
অ্যালবাম কভার- Ancient Future

 

 

 

Protoje-Royalty-Free-FREE-DOWNLOAD
অ্যালবাম কভার- Royalty Free

 

 

Protoje’s Soundcloud – https://soundcloud.com/protoje

& Website – http://www.protoje.com/

 

14009792_10210024994802512_925199113_n
প্রোটোজে

 

১৬ অগাস্ট ২০১৬

পাবলিশ্‌ড্‌ অ্যাট বাছবিচার

পাখির নাম কী হবে? ইউ ডিসাইড। শুধু পাখিই থাকুক? ।। আনিকা শাহ অ্যান্ড চিংখৈ অঙোম

 

DSCN1264
ছবি: আনিকা শাহ

 

আমাদের দুইটা পাখি ছিল। আমার আর আনিকার। দাম মনে নাই। সালও না।

চিংখৈ বিয়ে করলা কোন সালে? ২০১৪? সেই সাল।

আমরা অইদিন বইমেলায় একসাথে যাই। অনেক্ষণ হাঁটাহাঁটি করি। চারুকলার মোল্লা দিয়ে ঢুকি মনে হয় প্রথমে। তারপর হাঁটতে হাঁটতে কই কই।

বইমেলায় যাইতে একটা কালি মন্দির। কিছু একটা হইতেছিল তখন যখন আমরা মন্দিরটার সামনে দিয়ে হেঁটে যাই। মিউজিক শুনে আগ্রহী হই আমরা। কির্তন হইতেছিল।

ভিতরে ঢুকে আমরা মন্দিরের পাশে গিয়ে দাঁড়াই। কির্তন শুনি কিছুক্ষণ। ঝাপসা ঝাপসা মনে আছে আমার। আনিকার মনে থাকতে পারে স্পষ্ট। কিংবা তারও ঝাপসা ঝাপসা। কিংবা সে পুরোটাই ভুলে গিয়ে থাকতেও পারে।

আমরা যখন সেই ঝাপসা ঝাপসা মন্দির থেকে বের হই হই, এক ভক্ত আমাদের কপালে তীলক আঁইকা দিতে আগায়া আসে।

তিলকসংক্রান্ত কিছুই আমার মনে নাই। ইন ফ্যাক্ট আমার ধারণা এইটা চিংখৈ-এর কন্সট্রাক্টেড মেমোরি। কিংবা এই মেমোরির সাথে ওভারল্যাপ করা অন্য কোনো মেমোরি।

মন্দির থেকে বের হয়ে বইমেলায় গিয়ে দেখি বিরাট ভীড়। বইমেলার বাইরে আরেক মেলা বৈকি। পিঠা, চটপটি, ফুচকা, চানাচুর, পপকর্ন, পাখি, খেলনা, বেলুন, ধুলা, বালি, নয়েজ, ইত্যাদি।

আমরা কিছু খাইছিলামও বোধহয়।

সন্ধ্যা নাইমা গেছে তখন। অন্ধকার আকাশ। রেন্ডমলি হাঁটতেছিলাম আমরা। উদ্দেশ্যবিহীন। একটা মেলানকলিরে সাথে নিয়া।

মেলানকলিটাও কন্সট্রাক্টেড। ওভারল্যাপিং।

আমাদের পাখিটা উড়তে পারে। মানে ওড়ানো যায়। চাবি দেয়ার মতো কী একটা করতে হয়। তারপর ছাইড়া দিলে পাখিটা পাখির মতো ডানা ঝাপটাইতে ঝাপটাইতে উড়তে থাকে। তারপর চাবি ফুরায়া গেলে ডানাগুলা ক্লান্ত হয়ে আসে। ক্লান্ত পাখিটা মাটিতে নাইমা আসে। কিছুক্ষণ ছটফট করতে থাকে। তারপর নিথর। পাখিঅলার সাগরেদ তখন পাখিটারে নিয়ে আসে। আবার চাবি দেয়া হয়।

দূর থেকে দেখতেছিলাম আমরা এইসব।

আমরা দুইটা পাখি কিনি। দাম কমাবার চেষ্টা ছিল আমাদের। পারি নাই। পাখিঅলা বলে প্যাকের মধ্যে মেনুয়াল আছে, অইটা দেখে আমরা নিজেরাই জোড়া লাগায়া পাখি বানায়া ওড়াইতে পারব। আমাদের হাতে দুই প্যাকেট পাখি ধরায়া দেয় লোকটা। দাম মনে নাই। সালও না।

২০১৪। আমি বোধহয় পরে ঠিকঠাক বানাইতে পারব কি না এরকম সন্দেহ প্রকাশ করছিলাম, বা তখনই বানায়ে দেখতে চাইছিলাম, এবং নিজেই বাতিল করছিলাম সেই প্ল্যান। এরকম কিছু।

হাঁটতে হাঁটতে এইসব কথা বলতেছিলাম বোধহয় আমরা। নাকি পরে রিকশায় বসে। ঝাপসা ঝাপসা মনে আছে আমার। চিংখৈ-এর মনে থাকতে পারে স্পষ্ট। কিংবা তারও ঝাপসা ঝাপসা। কিংবা সে পুরাটাই ভুলে গিয়ে থাকতেও পারে।

 

তারপর অনেকদিন।

একদিন আনিকার সাথে কথা হয়। ম্যালাদিন পরে। পাখি নিয়ে। এমনি অন্য কথা এর মাঝে হইছে অনেক।

আমরা কেউই পাখিটারে ওড়াই নাই। আনিকা চেষ্টা করছিল। পারে নাই। আমি চেষ্টা করি নাই। ভুলে যাই। এইসব আলাপ হয় আমাদের।

হ্যাঁ, আমি জোড়া লাগাইতে পারছিলাম, কিন্তু উড়াইতে পারি নাই। পাখি উড়তো না।

আমি আনিকাকে বলি, তোমার পাখিটা নিয়ে আইসো। আমি শিখায়া দিব। তুমি ওড়াবা।

চিংখৈ খুব ভাব নিয়ে এমনভাবে বলছিল যেন ও পারবেই। যেন ও পেরেই থাকে, এসব।

বসুন্ধরা সিটিতে ফুডকোর্টে বসে খাইতে খাইতে আমি আনিকার পাখিটারে বাইর করি প্যাক থেকে। পলিথিন প্যাকে মোড়া প্লাস্টিকের পাখি।

ফুডকোর্টে বাইর করছিলাম? বাইরে সিঁড়িতে না?

আমি ট্রাই করি কিছুক্ষণ। জোড়াটোড়া লাগায়া পাখির শেইপ একটা দাঁড় করাই। কিন্তু মেকানিজমটা ঠিক করতে পারি না। দমঅলা ডানাটারে ঠিক করতে পারি না।

আমাদের আর পাখি ওড়ানো হয় না।

তোমার পাখিটার কী হইছিল পরে?

আমারটা আমি জানিই না কই। হারায় গেছে।

হুম্‌। আমি ফালায় দিছি।

 

১৮ মে ১৬

ফিশ লাভ ।। আন্তন চেখভ ।। অনুবাদ: আনিকা শাহ

7f774a14682899.562878c194baa
কালেক্টেড ফ্রম www.behance.net

 

“আনিকা শাহ কইছেন, ‘কিন্তু এমনও তো হইতে পারে যে লিটেরারি জঁরাগুলার এভল্যুশনের মধ্যে ফ্যাবিউলিজম হয়ে সাররিয়ালিজম ছাড়ায়ে ম্যাজিক রিয়ালিজমের দিকে যাওয়ার মাঝের কোনো একটা সময়ের গল্প এইটা। নিশ্চিত না, অসম্ভবও না।’ আমি ভাবছি, এমন কি হইতে পারে না যে, হিস্ট্রিক্যলি পিছের একটা টাইমে বইসা বইসা ঘুঘু চেখভ বা গোগল (নাক) ফিউচারে পিপিং করছেন, আটলান্টিক পার হইয়া, তারপর নকল করছেন ‘ম্যাজিক রিয়ালিজম’, দুনিয়ার আর আর মানুষের (যেমন, রাজু আলাউদ্দিন বা রফিক-উম-মুনীর) তখনো ঐ পরের ম্যা.রি.র লগে চিন-পরিচয় হয় নাই বইলা ওনাদের ঘুগলামী ধরতেই পারি নাই আমরা…:)!”

রক মনু

——————————-

“ফিশ লাভ” (প্রথম প্রকাশ ফ্র্যাগমেন্টস্‌  ম্যাগাজিনে, ১৩ জুন ১৮৯২) পড়ার আর অনুবাদ করার মধ্যে গ্যাপ এত বেশি হয়ে গেছে যে পড়ার সময় কী মনে হইছিল সেইটা মনে নাই। তবে এইটা মনে আছে যে পড়ার সাথে সাথেই অনুবাদ করার নিয়ত করছিলাম। খুব সম্ভব একটা এই কারণে যে গল্পটা ছোট, এবং আরেকটা এই কারণে যে গল্পের নায়ক একটা মাছ।

চেখভ আমার পড়া সবচেয়ে কমপ্যাশনেট লেখকদের মধ্যে একজন। তাঁর চরিত্ররা মানুষ হোক বা মাছ, এবং যেমনই মানুষ হোক বা যেমনই মাছ, আই হ্যাভ অলওয়েজ ফাউন্ড হিম টু হ্যান্ডল দেম উইদ আটমোস্ট কেয়ার। “ফিশলাভ”-এ হিউমার প্রমিনেন্ট, সারকাজম তস্য প্রমিনেন্ট। এতটা সারকাস্টিক চেখভকে হইতে দেখছি বলে মনে পড়ে না। তবে সারকাস্টিক হইতে হইতেও চেখভ কমপ্যাশনেট হইতে পারেন, সেইটা আরাম লাগে।

এমন হালকা ম্যাজিক রিয়ালিস্ট ধাঁচেরও চেখভকে হইতে দেখছি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু হয়তো তিনি তখন হচ্ছিলেন। এবং হয়তো তিনি একা না। আমরা ধরে নেই যে ম্যাজিক রিয়ালিজমের উৎপত্তি ল্যাটিন আমেরিকায়। তার আগে সাররিয়ালিজম ছিল ইউরোপে, তারও আগে ফ্যাবিউলিজম ছিল নানান জায়গায়। এবং নিশ্চয়ই তাই-ই। কিন্তু এমনও তো হইতে পারে যে লিটেরারি জঁরাগুলার এভল্যুশনের মধ্যে ফ্যাবিউলিজম হয়ে সাররিয়ালিজম ছাড়ায়ে ম্যাজিক রিয়ালিজমের দিকে যাওয়ার মাঝের কোনো একটা সময়ের গল্প এইটা। নিশ্চিত না, অসম্ভবও না। হয়তো কোনো কিছুরই উৎপত্তিস্থল কেবলমাত্র সেই একটা জায়গা না।

দ্য মেটামরফসিস পড়ে মনে হইত যে মানুষ মূলত তেলাপোকা। “ফিশ লাভ” পড়ে মনে হইছিল মানুষ মাঝে মাঝে মাছও। কিন্তু পরে আবার মনে হইল যে মাছই আসলে মাছ। এবং মাছ মাছই। এবং দ্যাট্‌স্‌ ওকে। দ্যাট্‌স্‌ বেটার দ্যান ওকে। এত মনুষ্যকেন্দ্রিক হয়ে আর কতকাল।

আনিকা শাহ

safe_image
আন্তন চেখভ

 

 

শুনতে আজব লাগলেও, জেনারেল পান্তালিকিনের বাগানবাড়ির পাশের পুকুরের একলা কার্পটা বেড়াইতে-আসা সোনিয়া মামোচকিনার হুলুস্থুল প্রেমে পড়ে গেল। অবশ্য, এমনই আর কি আজব বিষয়টা? লেরমন্তভের শয়তান তামারার প্রেমে পড়ল*, রাজহাঁস লেডার প্রেমে পড়ল, আর আমলারাও তো মাঝেমাঝে তাদের বসের মেয়েদের প্রেমে পড়ে, পড়ে না? সোনিয়া মামোচকিনা প্রতিদিন সকালে তার ফুপুর সাথে গোসল করতে আসে। আর প্রেমে-পড়া কার্প পুকুরের ধারে সাঁতরায়ে সাঁতরায়ে তাকে দ্যাখে। পুকুরের পানি অবশ্য বহু আগেই বাদামি হয়ে গেছে, যেহেতু পাশেই ক্র্যান্ডেল আ্যান্ড সন্সের ঢালাইয়ের কারখানা। কিন্তু কার্পটা তাও সব দেখতে পায়। সে সাদা-সাদা মেঘ দ্যাখে, নীল আকাশে পাখি দ্যাখে, বেড়াইতে-আসা ভদ্রমহিলাদের জামাকাপড় খুলতে দ্যাখে আর পুকুরের পাশের ঝোপের চিপায় দাঁড়ায়ে তাদের দিকে উঁকি-মারা কমবয়সী ছেলেদের দ্যাখে। সে গোলগাল ফুপুকেও দ্যাখে। তিনি পানিতে নামার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট একটা পাথরের উপর বসে থাকেন আর খুশিমনে নিজের গা চাপড়াইতে চাপড়াইতে বলেন: ‘ক্যামন করে আমি এমন হাতির মতো দেখতে হইলাম? কী বাজে লাগে আমারে দেখতে।’ হালকা-পাতলা কাপড়গুলা খুলে ফেলে সোনিয়া চিৎকার দিয়ে পানিতে ঝাঁপ দেয়, সাঁতার কাটে, ঠাণ্ডায় কাঁপে। আর সেখানে থাকে কার্পটা, সাঁতরায়ে ওর কাছে যায়, লোভীর মতো চুমু দেয় ওর পায়ে, কাঁধে, ঘাড়ে…

গোসল শেষে ওরা ঘরে যেয়ে চা-বিস্কিট খায়, আর একলা কার্পটা পুকুরে গোল-গোল সাঁতার কাটে আর ভাবে: ‘সাড়া পাওয়ার তো কোনো চান্সই নাই। এত সুন্দর একটা মেয়ে, ও কি আর আমার প্রেমে পড়বে, একটা কার্পের? জীবনেও না, হাজারবার না! এইসব স্বপ্নের লোভ দ্যাখাইয়ো না নিজেরে, গাধা মাছ কোথাকার! কপালে তোমার একটা জিনিসই আছে – মরণ। অবশ্য মরবও ক্যামনে? পুকুরে রিভলভার নাই, ম্যাচের কাঠি নাই। কার্পের মরণ হয় পাইকের কামড়ে, কিন্তু পাইকও কই পাই। সারা পুকুরে একটাই পাইক ছিল সে-ও তো বোর হয়ে মারা গেছে। এমনই মরার কপাল আমার!’

মৃত্যুর কথা ভাবতে ভাবতে তরুণ নৈরাশ্যবাদী আঠা-আঠা মাটির নিচে ঢুকে ডায়রি লিখে…

একদিন দুপুরে সোনিয়া আর ওর ফুপু মাছ ধরার জন্য পুকুর পাড়ে বসে। বঁড়শির ফাঁকে ফাঁকে কার্পটা সাঁতার কাটে, ভালোবাসার মানুষের থেকে চোখ সরাইতে পারে না। তখনই তার মাথায় আইডিয়ার বিদ্যুৎ চমকায়।

‘ওর হাতেই মরব আমি!’ সে ভাবে। খুশির চোটে ওর ডানা চকচক করে। ‘আহা কী সুখের মরণ হবে সেইটা!’

সোনিয়ার বড়শির কাছে গিয়ে সে বড়শির হুক কামড়ায়ে ধরে।

‘সোনিয়া, তোমার বঁড়শিতে মাছ লাগছে!’ ফুপু চ্যাঁচায়ে উঠে, ‘মাছ লাগছে দ্যাখো তোমার বঁড়শিতে, সোনা!’

‘আরে! তাই তো!’

সোনিয়া লাফ দিয়ে উঠে তাবৎ শক্তি লাগায়ে টান দেয়। চকচকা সোনালি কিছু একটা বাতাসে দেখা দিয়ে পানিতে পড়ে যায় আবার, পানিতে বৃত্ত তৈরি করে।

‘চলে গেল!’ দুইজনেই বলে উঠে।

ওরা হুকের দিকে তাকায়ে দ্যাখে মাছের ঠোঁট লেগে আছে।

‘এত জোরে তোমার টান দেয়া উচিত হয় নাই সোনা,’ ফুপু বলে। ‘বেচারা মাছটার এখন ঠোঁট ছাড়া থাকতে হবে…’

আমার গল্পের নায়ক হুক থেকে ছাড়া পেয়ে তাজ্জব হয়ে গেল। অনেকক্ষণ বুঝতেই পারল না যে ঘটনাটা কী ঘটল। কিন্তু তারপর যখন বুঝতে পারল, তখন আর্তনাদ করল:

‘আবার আমাকে বাঁইচা থাকতে হবে! আবার! কপাল আমার তামশা করে আমার সাথে!’

তারপর সে যখন আবিষ্কার করল যে তার নিচের ঠোঁটটা নাই, কার্পটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল, আর বিকট এক হাসি দিল… কার্পটা পাগল হয়ে গেল।

c9b57414682899.5628793823c5c
কালেক্টেড ফ্রম www.behance.net

 

আমার আশংকা যে সিরিয়াস রিডার যারা, তাদের মনোযোগ যে আমি কার্পের মতো তুচ্ছ, ম্যাড়ম্যাড়া একটা প্রাণীর দিকে ঘুরায়ে রাখতে চাইতেছি, এইটা তাদের আজব লাগবে। অবশ্য, এমনই আর কি আজব বিষয়টা? লিটেরারি জার্নালগুলায় ভদ্রমহিলারা লেখেন না ছোটমাছ আর শামুক নিয়ে, যেইসব কেউ পড়তে চায় না? আমি জাস্ট তাদেরকে কপি করতেছি। আর হয়তো আমিও ভদ্রমহিলাই, জাস্ট পুরুষ-ছদ্মনামের পিছনে লুকায়ে আছি।

তো কার্পটা পাগল হয়ে গেল। এবং এই অভাগা প্রাণী এখনও বেঁচে আছে। কার্পরা সাধারণত ভাজি হইতে চায়, সাথে টক দই। কিন্তু আমার নায়ক যে কোনো ধরনের মৃত্যুর জন্যই রাজি আছে। সোনিয়া মামোচকিনা এক ওষুধের দোকানের মালিককে বিয়ে করে ফেলছে, আর ওর ফুপু গেছে তার বিবাহিত বোনের সাথে থাকতে লিপেট্‌স্‌কে। সেইটাতেও আজব কিছু নাই, বিবাহিত বোনের ছয়টা বাচ্চা, তারা সবাই তাদের খালাকে বড়ই ভালোবাসে।

কিন্তু কাহিনি আরও আছে। ক্র্যান্ডেল আ্যান্ড সন্স ঢালাই কারখানার ডিরেক্টর হইল একজন ইঞ্জিনিয়ার, নাম ক্রিসিন। তার বোনের ছেলের নাম ইভান। ইভান কবিতা লিখে আর সব জার্নাল-পত্রিকায় ছাপায়, সবাই জানে। একদিন দুপুরে, গরমের দিনে, কমবয়সী কবি পুকুরের পাশে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যাইতে যাইতে ঠিক করল যে একটা ডুব দিবে। সে জামাকাপড় খুলে পানিতে নামল। পাগলা কার্প ওকে দেখে ভাবল সোনিয়া মামোচকিনা। সে সাঁতরায়ে ওর কাছে যেয়ে খুব নরম করে ওর পিঠে চুমু দিল। সেই চুমুর ফলাফল হইল মারাত্মক: কার্পের চুমুতে কবির মধ্যে নৈরাশ্যবাদ ছড়ায়ে পড়ল। সে পানি থেকে উঠল, কিছুই না টের পেয়ে, বাড়ির দিকে রওনা দিল বিকট হাসতে হাসতে। কয়েকদিন পর সে গেল পিটার্সবার্গে। সেইখানে সে বিভিন্ন সম্পাদকের অফিসে অফিসে ঘুরল, আর নৈরাশ্যবাদ ছড়ায়ে দিল ওইখানের সব কবিদের মধ্যেও। তারপর থেকেই আমাদের সব কবিরা দুঃখী আর মরা-মরা কবিতা লিখতে লাগলো।

87be5d14682899.562878c6cd3ac
কালেক্টেড ফ্রম www.behance.net

 

*মিখাইল লেরমন্তভের কবিতা দ্য ডীমন-এ (১৮৩৯) শয়তান ভালোবাসত তামারাকে, কিন্তু তার চুমুতে তামারার মৃত্যু হয়।

 

২৪ জুলাই ২০১৬

পাবলিশ্‌ড্‌ অ্যাট বাছবিচার

 

নাউ প্লেয়িং: লানা ডেল রেই

tumblr_inline_n1inrt8OJk1sprufq
লানা ডেল রেই

লানা ডেল রেই। আমেরিকান সিংগার, সংরাইটার, মডেল। মিউজিক জঁরা বারোক পপ, ড্রিম পপ, ইন্ডি পপ, রক, ট্রিপ হপ। স্টুডিও অ্যালবাম লানা ডেল রেই [Lana Del Rey] (২০১০), বর্ন টু ডাই [Born to Die] (২০১২), আল্ট্রাভায়োলেন্স [Ultraviolence] (২০১৪), হানিমুন [Honeymoon] (২০১৫)।

জ্যাজের সাথে ইলেক্ট্রো মিশলে যেইটা হয় ডেল রেই-এর গান সেইটা। কিন্তু ট্রিপি। কিন্তু সিনেম্যাটিক। ড্রিম যেইটা যেকোনো মুহূর্তে নাইটমেয়ার হয়ে যাইতে পারে। কতটুকু ইনডাল্‌জ্‌ করা নিরাপদ নিশ্চিত হওয়া যায় না। সিডাকটিভ টু দ্য পয়েন্ট অভ গথিক। হ্যাপি হইলেও স্যাড। স্যাড হইলেও স্যাড উইদ আ টুইস্ট।

ডেল রেইকে হিপস্টার জেনারেশনের নমুনা হিসাবে দেখা হইলেও ওর হিপস্টার-হালের পুরাটুক দুইহাজার অনওয়ার্ডসের না, বরং অর্ধেকটা। বাকি অর্ধেক ফর্টিজ-এর জ্যাজ এইজ আর ফিফটিজ-এর বিট জেনারেশন ইন্সপায়ার্ড। সেইটা মিউজিকে জ্যাজ-ইলেক্ট্রো মিক্সের ধরনে আর ঘন ঘন সেইসব সময়ের পপ কালচারের রেফারেন্সে আন্দাজ করা যায়। ডেল রেই তাদের অংশ যারা কাজের মধ্য দিয়ে আইডেন্টিটি তৈরি করে না, আইডেন্টিটি তৈরি করে আগে। যারা কনফিডেন্ট, কেয়ারফ্রি, এমনকি কেয়ারলেসও, কিন্তু একই সাথে ইনসিকিওর এবং ভালনারেবলও হইতে পারে। যারা বলে অল আই ওয়ানা ডু ইজ গেট হাই বাই দ্য বীচ। যারা ডেলিবারেটলি অধরা, কিন্তু এইটাও বোঝে যে লোকে তাদের ছবির বইয়ের মতো দেখবে, পড়বে না। যারা বলে যে আমার বয়ফ্রেন্ড কুল ঠিক আছে, কিন্তু আমার মতো কুল না, কিন্তু এইটাও ভাবে, যখন আমার আর বয়স কম থাকবে না, যখন আমি আর সুন্দর থাকব না, তখনও কি তুমি আমারে ভালোবাসবা? যারা আনডিফাইন্ড্ থাকতে গিয়ে কালেক্টিভলি ডিফাইন্ড্ হয়ে যায়, কিন্তু আবার দেখতে ডিফাইন্ড্ মনে হইলেও ডিফাইন করতে গেলে দেখা যায় যে ভেইগ।

del_rey_finals
লানা ডেল রেই

 

টপ এইট।

 

 

 

LDRAKALG
অ্যালবাম কভার- Lana Del Rey

 

 

Lana-Del-Rey-Born-To-Die-album-cover
অ্যালবাম কভার – Born To Die

 

 

Lana-Del-Rey-Ultraviolence-2014-1500x1500
অ্যালবাম কভার – Ultraviolence

 

 

 

LanaDelReyHoneymoon
অ্যালবাম কভার – Honeymoon

 

 

 

file
লানা ডেল রেই

 

০৩ জুলাই ২০১৬

পাবলিশ্‌ড্‌ অ্যাট বাছবিচার

নাউ প্লেয়িং: লিসা হ্যানিগান

file
লিসা হ্যানিগান

লিসা হ্যানিগান আইরিশ মিউজিশিয়ান, সিংগার-সংরাইটার। গান মূলত ইন্ডি ফোক জঁরার। অ্যালবাম এখন পর্যন্ত দুইটা – সী সো [Sea Sew] (২০০৮), প্যাসেঞ্জার [Passenger] (২০১১)।

হ্যানিগানকেও একই সাথে হার্শ এবং স্মুদ বলা যায়। ইন ফ্যাক্ট, দুইটার মাঝের লাইনটা প্রায় মিলায়ে যায় ওর গানে। হ্যানিগান এক্সাইটিং, ইনক্লুসিভ, ভ্যারিড – একটা স্টাইলের ভিতর অন্য অনেকগুলা স্টাইল।এবং হ্যানিগান গ্রোজ স্লোলি কিন্তু গ্রোজ স্ট্রং। রাইসের সাথে মিউজিক করায় বারবার তুলনা চলে আসে, কিন্তু তাদের একসাথে করা গানের তুলনায় আমার হ্যানিগানের গানই বেশি ভালো লাগে, যদিও একসময় উল্টাটা ঘটত। এইটা আমার পার্শিয়ালটি হইতে পারে, কিন্তু রাইস শোনার সময় আমার হ্যানিগানের কথা মনে আসলেও হ্যানিগান শোনার সময় আমি রাইসের কথা ভাবি না।

হ্যানিগানও মেলাংকলিক [আইরিশ ফোক ট্র্যাডিশন হয়তো], কিন্তু ওর মেলাংকলিটা মোর এভরিডে কাইন্ড অভ মেলাংকলি। মানে, হ্যাপি আর স্যাডের পার্থক্যটা ব্লার হয়ে যাইতে থাকে। আছে তো আছে টাইপ। ওর প্রেমটাও আছে তো আছে টাইপ – আলাদা করে প্রেমের এসে সেইভ করে যাইতে হয় না, সবাই নিজেরা নিজেরাই সেইভ্‌ড্‌ হয়ে যাইতে পারে, সম্ভব সেইটা, কমপ্যাশন থাকলেই হয়ে যায়।হ্যানিগান মেটাফরিক্যল। ওর গানে ওর যেই স্টোরিগুলা আছে, সেইগুলার সাথে রিলেট করার জন্য মেটাফোর ও নিজেই দিয়ে দেয় – পার্সোনাল স্টোরির জন্য পার্সোনাল মেটাফর থাকলে ভালো তাই, অন্য-নতুন স্টোরির জন্য অন্য-নতুন মেটাফর থাকলে ভালো তাই।

Hannigan_umbrella_by_James_Minchin_III1
লিসা হ্যানিগান

 

এইখানে টপ ফিফটিন পার্সোনাল ফেভারিট।

 

 

 

 

 

 

R-1774642-1323024736.jpeg
অ্যালবাম কভার – Sea Sew

 

 

 

 

 

 

 

1316841199_lisa-hannigan-passenger-2011
অ্যালবাম কভার – Passenger

 

 

 

 

 

hannigan-lisa-4fd7337f29d32

২১ মে ২০১৬

পাবলিশ্‌ড্‌ অ্যাট বাছবিচার

নাউ প্লেয়িং: ডেমিয়েন রাইস

Damien-Rice-bw
ডেমিয়েন রাইস

ডেমিয়েন রাইস আইরিশ মিউজিশিয়ান, সিংগার-সংরাইটার, রেকর্ড প্রডিউসার। গান মূলত ফোক, ইন্ডি রক, ফোক রক জঁরার। এখন পর্যন্ত অ্যালবাম তিনটা – ও [O] (২০০২), ৯ [9] (২০০৬), মাই ফেভারিট ফেইডেড ফ্যান্টাসি [My Favourite Faded Fantasy] (২০১৪)।

রাইসের গান একই সাথে হার্শ এবং স্মুদ। অস্থির হইলেও শান্ত, শান্ত হইলেও অস্থির। এক ধরনের স্যাডনেস আছে, মেলাংকলি আছে, আমি আইরিশ ফোক লালাবাইগুলার সাথে সেইটার মিল পাই। রাইসের সাথে প্রথমদিকে লিসা হ্যানিগান গান গাইত। প্রথমদিকে বলতে রাইসের প্রথম দুইটা অ্যালবামের কাজ চলাকালীন সময়ে হ্যানিগান ওর ব্যান্ডের অংশ ছিল, পরে আলাদা হয়ে যায়। হয়তো ওদের একসাথে করা মিউজিকই ভালো ছিল, ওদের হারমনি-সমেত। অন্তত রাইসের জন্য বটেই, হ্যানিগান একটা এজ দিত ওকে। হ্যানিগানের জন্য হয়তো আলাদা হয়ে যাওয়াটাই ভালো ছিল। তবে প্রসঙ্গ আসলেও, হ্যানিগান এখানে না, সিন্স শী ডিমান্ডস হার ওউন প্রোফাইল।

রাইসের গানে প্রেম একটা ডমিনেটিং থীম। কিন্তু এই প্রেম হয়তো রোম্যান্টিক প্রেমের চাইতে ব্রড [মানে, এমন না যে শুধু রোম্যান্টিক প্রেম হইলেও সমস্যা ছিল – সেইটাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণই, আমাদের অপ্রস্তুত-হয়ে-থাকা সত্ত্বেও]। একদিকে প্রেমকে রিয়ালিস্টিক্যলি দেখানোর চেষ্ট আছে – “রিয়াল” প্রেম, বা, দ্য “রিয়্যালিটি” অভ প্রেম; অন্যদিকে আইডিয়ালিস্টিক ভিউ-ও আছে – শেষপর্যন্ত প্রেমই আমাদের বাঁচায়ে দিবে, তুমি আমাকে বাঁচায়ে দিবা, বা, হয়তো আমিও তোমাকে।

Damien-Rice-5278
ডেমিয়েন রাইস

 

এইখানের এগারটা গান পার্সোনাল ফেভারিট।

 

 

 

 

Damien_Rice_O_album_cover
অ্যালবাম কবার – O

 

 

 

 

377ff009
অ্যালবাম কভার – 9

 

 

 

 

 

Damien-Rice-My-Favorite-Faded-Fantasy1
অ্যালবাম কভার – My Favourite Faded Fantasy

 

 

tumblr_inline_n1inrt8OJk1sprufq
লিসা হ্যানিগান আর ডেমিয়েন রাইস

 

২১ মে ২০১৬

পাবলিশ্‌ড্‌ অ্যাট বাছবিচার